এ জোটের পরবর্তী চেয়ারম্যান হবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এসব কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেহেতু বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। তাই সদস্যভুক্ত সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়ে যান বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পাণ্ডে। তিনি ঢাকা সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই তথ্য জানান।
খলিলুর রহমান আরও বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। আমরা আশা করছি, অন্যান্য সব সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি এই সুযোগে তাঁর সঙ্গে বিমসটেকের আগামী দিনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন। এটা হওয়াই স্বাভাবিক। সে কারণে আমরা ভাবছি, এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটুকুই আছে।’
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যের জেরে ভারতীয় নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই কথাটি প্রধান উপদেষ্টা এবারই প্রথম বলেননি। তিনি ২০১২ সালে একই ধরনের কথা বলেছিলেন। এর চেয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী (ফুমিও) কিশিদা দিল্লিতে বলেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের একটা ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার এবং সিঙ্গেল ইকনোমিক জোনের কথা বলেছিলেন, যেটা বিগ বি ইনিশিয়েটিভ বলে গণ্য করা হয়। কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে, বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রে এক্সেস পাওয়া কঠিন। আমরা কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেব না, দেওয়ার মতো অবস্থাও আমাদের নেই। কেউ যদি নেন খুব ভালো, আর যদি না নেন তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই তিনি (ড. ইউনূস) বলেছেন। আমরা কানেক্টিভিটি সবার ইকুইটেবল বিনিফিটের জন্য দিতে আগ্রহী আছি।
বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে অবস্থান করবেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট। ১৯৯৭ সালের ৬ জুন, ব্যাংককে—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে একটি নতুন আন্তঃআঞ্চলিক জোট সৃষ্টি করা হয় এবং সভায় অংশগ্রহণকারী মূল আলোচকদের দেশের নামের অদ্যাক্ষর অনুযায়ী এই জোটের নাম দেওয়া হয় বিমসটেক।