আজ শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ||
১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শনিবার, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
সিইসির গলায় যদি জুতার মালা হয়, এর অংশীদার আপনিও
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
ফাইল ছবি
আসলাম আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি: সংসদ নির্বাচনে ‘ইতিহাসের সেরা ভোট’ উপহার দেওয়ার প্রত্যয় রাখলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনারের গলায় জুতার মালার বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন এ কমিশন।
সেজন্য, ভালো নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে তাদের মত।
আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আগারগাঁওস্থ নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সিইসি। এসময় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও ইটিআই মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সে সময় নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ভালো নির্বাচন আমাদের কমিটমেন্ট হবে। এই যে এত রক্ত গেল, এত প্রাণ গেল, এত বছর মানুষের দুঃখ কষ্ট; যদি সঠিক নির্বাচন হতো এগুলো কিন্তু হতো না। আজকে নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় যদি জুতার মালা হয় এটির অংশীদার কিন্তু আপনি; মনে করেন না যে আপনিও না।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সুতরাং আবারও বলছি, আবারো অনুরোধ করছি- এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেন যে প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে কমিটমেন্ট, যে প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে যে সুন্দর সঠিক নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই। এই তেজি ভাবটা, এই জিহাদী ভাবটা আমাদের মধ্যে যাতে কাজ করে সেই প্রত্যাশা রেখে এগোতে হবে।
নির্বাচনে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ হবে না বলে মন্তব্য করে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জীবন চলে যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে ফাঁকিবাজি, ধোঁকাবাজি করা যাবে না। কমিশন ও মাঠপর্যায়ের সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
এলক্ষ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে ‘বিতর্কিত ভোটের’ জন্য সাবেক দুই সিইসির এখন কারাবান্দী ও জুতার মালা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের বিষয়টিও তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনাররা।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য নিয়ে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটা প্রপারলি এড্রেস হয় সে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আইন কানুনের বিষয়ে জানতে হবে। যে কোনো ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ এলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ট্রেনিংকে সিরিয়াসলি নিতে হবে। প্রশিক্ষণের উপর আমাদের সফলতা নির্ভর করছে। প্রশিক্ষণের বটম লাইন হচ্ছে-প্রফেশনালিজম, প্রফেশনালিজম, প্রফেশনালিজ অ্যান্ড নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমার সহকর্মী বলে গেলেন নির্বাচনটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জুতার মালা পরানো হয়েছে। আরেকটু যোগ করে যদি বলি-আরেকজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বর্তমানে কারা অন্তরে রয়েছেন। দুঃখজনক। এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী- গভীর বিশ্লেষণের দরকার। আশা করি, এক সময় বিশ্লেষণ হয়েও যাবে, গবেষণাও হয়ে যাবে। আমরা যারা আজকে দাঁড়িয়ে আছি, আজকে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা কী করব, হোয়াটস এ মেকানিজম?
সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে ইসির ভূমিকা তুলে ধরেন এ নির্বাচন কমিশনার।
এ নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নিজের দায়িত্বটাকে আইনানুগভাবে করতে হবে। কারো দিকে না তাকিয়ে আইন মেনে কাজ করতে হবে; সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করলেই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে। কে কী করল, কী ভাবল, চিন্তা করলে-সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার হচ্ছে মেইন পারসন, সেই একমাত্র লোক যে ফেয়ার ইলেকশন কনডাক্ট করবে। তার দায়িত্ব ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।...আইন, সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। তা না হলে প্রশ্ন আসবে কোনো কোয়ারাটার থেকে কোনো দপ্তর, বিভাগ থেওকে প্ররোচিত হয়েছেন। আমরা ফ্রি, ফেয়ার ইলেকশন চাই।